Home রাজ্যনীরবতা কি কৌশল, না ভীরুতা? চাপ নাকি গোপন সমঝোতা।

নীরবতা কি কৌশল, না ভীরুতা? চাপ নাকি গোপন সমঝোতা।

by News All Times
0 comments 60 views

 

রাজ্যের এক মন্ত্রীর প্রকাশ্য মঞ্চে এক সাংবাদিককে তিরস্কার ও অপমানের ঘটনা নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রশ্নকে। একটি সরকারি কর্মসূচির শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ওই সাংবাদিক কঠোর ভর্ৎসনার শিকার হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মন্ত্রীর কণ্ঠস্বর ও ভাষা ছিল স্পষ্টতই আক্রমণাত্মক এবং ব্যক্তিগত।ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়ছে। কিন্তু বিস্ময়ের বিষয়—যে সংবাদ সংস্থার হয়ে ওই সাংবাদিক কাজ করেন, তাদের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত একটিও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি নেই। নেই প্রতিবাদ, নেই নিন্দা, নেই কর্মীর পাশে দাঁড়ানোর দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগ।প্রশ্ন উঠছে, এই নীরবতা কিসের ইঙ্গিত?গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংবাদমাধ্যমকে বলা হয় চতুর্থ স্তম্ভ। সেই স্তম্ভেরই এক সদস্যকে প্রকাশ্যে অপমান করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম দায়িত্ব কি কর্মীর মর্যাদা রক্ষা করা নয়? নাকি প্রতিষ্ঠানের কাছে বিজ্ঞাপন, রাজনৈতিক সুসম্পর্ক বা ক্ষমতার আশীর্বাদ বেশি গুরুত্বপূর্ণ?সাংবাদিক মহলের একাংশের সরাসরি অভিযোগ, এটি নিছক নীরবতা নয়—এটি ভয়ের প্রকাশ। প্রশাসনিক চাপ, বিজ্ঞাপন নির্ভরতা বা রাজনৈতিক সমীকরণের কারণে অনেক সময় প্রতিষ্ঠানগুলি প্রকাশ্যে অবস্থান নিতে সাহস পায় না। ফলে কর্মীরা একা পড়ে যান, আর ক্ষমতার ভাষা হয়ে ওঠে আরও বেপরোয়া।আবার অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, কোথাও কি গোপন সমঝোতা কাজ করছে? যদি কোনও সাংবাদিককে অপমানের পরও প্রতিষ্ঠান চুপ থাকে, তবে সেই নীরবতা কি বার্তা দেয়? এটি কি ক্ষমতার কাছে আত্মসমর্পণ নয়?এ ঘটনাকে ঘিরে আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে—সংবাদমাধ্যমের ভেতরেই কি আত্মসম্মানের সংকট তৈরি হয়েছে? যদি সংবাদ সংস্থাগুলি নিজেদের কর্মীদের পাশে না দাঁড়ায়, তবে ভবিষ্যতে কঠিন প্রশ্ন করার সাহস কে দেখাবে? তিরস্কার যদি নিয়মে পরিণত হয়, তবে গণতন্ত্রের স্বরই ক্ষীণ হয়ে পড়বে।রাজনৈতিক মহল এখনো এ বিষয়ে মুখ খোলেনি। কিন্তু জনমনে আলোড়ন বাড়ছে। এই ঘটনা কেবল একজন সাংবাদিকের অপমান নয়, এটি পেশার মর্যাদা ও স্বাধীনতার প্রশ্ন।নীরবতা কি কৌশল, না ভীরুতা? সময়ই তার উত্তর দেবে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—প্রকাশ্য অপমানের চেয়ে কখনও কখনও প্রতিষ্ঠানের নীরবতাই বেশি আঘাত দেয়।

Leave a Comment