The Street Vendors Act 2014 : ২০১৪ সালের মার্চ মাসে পূর্বতন ইউপিএ সরকারের আমলে একটি বিল পাশ হয়েছিল দিল্লীর পার্লামেন্টে। স্ট্রিট ভেণ্ডারস এক্ট ২০১৪, যা ১লা মে থেকেই গোটা দেশে কার্যকরী হয়। আইন টি মূলত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকার দের স্বার্থে এবং তাদের ব্যবসা ও জীবন ধারন কে সহজ করে তুলতে প্রণয়ন করেছিল পূর্বতন সরকার।
২০১৪ বর্ষেই দেশে ইউপিএ সরকারে পতন ঘটে, ক্ষমতা দখল নেয় বিজেপি এনডিএ জোট। কিন্তু তাতে এই আইনে কোনো প্রভাব পরেনি। আজো স্ট্রিট ভেণ্ডারস এক্ট ২০১৪ কে মান্যতা দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন তাও আবার বৈধ লাইসেন্স নিয়ে।
কিন্তু তার পরেও নিগম কর্তৃক তাদের কে নানাভাবে নানা অজুহাতে প্রায়শই উচ্ছেদ করে দেওয়া হচ্ছে। তাদের অস্থায়ী দোকান , অস্থায়ী স্টল গুলোকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। অবৈধ দখল দার বলে তাদের দূর দূর করে তাড়ানো হচ্ছে। আর তাতে করে জন কল্যান মুখী সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট যেমন হচ্ছে তেমনি প্রশ্ন উঠছে ভেন্দারদের জন্যে প্রণীত আইনের মুল্যায়ন আদতে হল কি ?
আগরতলা শহরে বর্তমানে যানজট কম করতে , ফুটপাত উন্মুক্ত রাখতে যেভাবে নিরন্তর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাতে গোটা বিষয়টি এখন দৃষ্টি কটু হয়ে উঠেছে। আর্থিক ক্ষতি তো বটেই, মানসিক ভাবে ও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
banner
আইন অনুযায়ী লাইসেন্স ধারি ব্যবসায়ীরা দের চাইলেই যখন তখন উচ্ছেদ করে দেওয়া যায়না। অন্তত তাদের ৩০ দিন আগে নোটিশ ইস্যু করতে হয়। তাছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা না করে কোনো ভাবেই তাদের কে উচ্ছেদ করা যায়না। কিন্তু আগরতলা পুরো নিগম কর্তৃক উচ্ছেদ অভিযান চালানোর আগে তাদের কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন হকাররা।
এমনকি তাদের বিকল্প ব্যবস্থা না করেই উচ্ছেদ করে দেয়া হয়েছে।
বহু স্টল তাদের সামগ্রী সমেত তুলে নিয়ে গেছে নিগম। কিন্তু সেগুলো আজ প্রায় ৩ দিন হতে চললেও ফেরান হচ্ছে না ভেণ্ডার দের।
যা স্ট্রিট ভেণ্ডার এক্ট কে উলঙ্ঘন করে।
এমতাবস্থায় সরকার যদি নিজেদের মানব দরদী বলে আখ্যা দেন তবে তা নিতান্তই হাসির খোঁড়াক।
যানজট কমাতে যানবাহনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারের শূন্য ভূমিকা , কিন্তু ভেণ্ডার দের লাইসেন্স থাকা সত্বেও তাদের পেটে লাথি মারতে এক দণ্ড দেরি করেনি পুরো নিগম। এদিকে সেই ফুটপাতেই আবার শাসক দলের পার্টি অফিস , ফ্লেক্স,ফেস্টুন সবই রয়েছে। কিন্তু সেগুলিতে হাত দেওয়া হচ্ছে না। দ্বিচারিতা তো এখানেই স্পষ্ট।
বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে শতাধিক মানুষের পরিবার এখন অনাহারে অর্ধাহারে ভুগছেন। সেই দায় কারা নেবে ? জবাব চায় মানুষ।
